কয়রা উপজেলা খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণে কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও শিবসা নদী পরিবেষ্টিত এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সরাসরি সংলগ্ন একটি উপকূলীয় উপজেলা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকা সংগ্রামী মানুষ, সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু, বাগদা চিংড়ি, কাঁকড়া এবং দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী-জোড়শিং সুন্দরবন ভিউপয়েন্ট কয়রাকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।
🏛️ ইতিহাস ও নামকরণ
পূর্বে পাইকগাছা থানার অন্তর্ভুক্ত থাকা এই উপকূলীয় অঞ্চলটি ১৯৮০ সালে কয়রা থানা হিসেবে গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলায় উন্নীত হয়। সুলতানি আমলে খান জাহান আলী (রহ.)-এর অনুসারী পীর বোরহানউদ্দিন খাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র "জায়গীরমহল" এই কয়রার আমাদী ইউনিয়নেই অবস্থিত ছিল।
🧭 ভৌগোলিক অবস্থান
কয়রা উপজেলার উত্তরে পাইকগাছা উপজেলা, দক্ষিণে ও পূর্বে সুন্দরবন ও শিবসা নদী (দাকোপ সীমান্ত), এবং পশ্চিমে কপোতাক্ষ নদ ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা অবস্থিত।
👥 আয়তন ও জনসংখ্যা
সুন্দরবনের বনাঞ্চলসহ কয়রা উপজেলার মোট আয়তন ১,৭৭৫.৪১ বর্গ কিলোমিটার (জনবসতিপূর্ণ এলাকা প্রায় ২৬৩.২৩ বর্গ কিমি)। জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৫ হাজার। এতে ৭টি ইউনিয়ন ও ১৩১টি গ্রাম রয়েছে।
🌟 উপজেলা কিসের জন্য বিখ্যাত
কয়রা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক চাকের মধু, বাগদা চিংড়ি, কাঁকড়া এবং আমাদী জায়গীরমহলের প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত।
🌊 নদনদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ
কপোতাক্ষ, শিবসা, শাকবাড়িয়া ও কয়রা নদী এই উপজেলার প্রাণ। শাকবাড়িয়া নদীর ওপারেই শুরু হয়েছে সুন্দরবনের গহীন বনাঞ্চল।
🌾 কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতি
চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ, আমন ধান, লবণসহিষ্ণু ফসল এবং সুন্দরবন নির্ভর মৎস্য ও মধু আহরণ কয়রার অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
🛣️ যোগাযোগ ও পরিবহন
খুলনা শহর থেকে ডুমুরিয়া-চুকনগর-পাইকগাছা হয়ে কয়রা সদর পর্যন্ত সরাসরি পাকা সড়কপথে বাস চলাচল করে। এছাড়া খুলনা লঞ্চঘাট থেকে কয়রা ও দক্ষিণ বেদকাশী পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করে।
🎭 ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
মৌয়াল ও বাওয়ালীদের লোকজ সংস্কৃতি, কপোতাক্ষ নদের তীরের ঐতিহ্য এবং জায়গীরমহলের সুলতানি আমলের ইতিহাস কয়রার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য।
🏢 গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান
কয়রা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (জায়গীরমহল, ৫০ শয্যা), কয়রা থানা, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের স্টেশন এবং ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স।