খুলনা, বাংলাদেশ ৭ November ২০২৬, Saturday

নাগরিক সেবা নির্দেশিকা ও নিয়মাবলী

📖 নাগরিক সেবা নির্দেশিকা ও আবেদন নিয়মাবলী

খুলনা জেলার নাগরিকদের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রাপ্তির নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা, সরকারি ফি ও অফিসিয়াল পোর্টাল লিংক।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন, সংশোধন ও যাচাই পদ্ধতি

👥 আবেদন যোগ্যতা

শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে আবেদন করা যায়। এছাড়া যে কোনো বয়সের ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আবেদন করতে পারেন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ইপিআই (টিকা) কার্ড বা জন্মলগ্নের হাসপাতাল প্রত্যয়নপত্র
  • পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন / এনআইডির কপি
  • হোল্ডিং ট্যাক্স বা বিদ্যুৎ বিলের কপি (ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ)

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. সরকারি পোর্টাল bdris.gov.bd-এ প্রবেশ করে "জন্ম নিবন্ধন আবেদন" মেনু নির্বাচন করুন।
  2. স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানার সংশ্লিষ্ট খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পরিষদ সিলেক্ট করুন।
  3. আবেদনকারীর নাম (বাংলা ও ইংরেজি ক্যাপিটাল অক্ষরে), জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার এনআইডি সতর্কতার সাথে পূরণ করুন।
  4. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করে সাবমিট করুন এবং আবেদন ফরম প্রিন্ট নিন।
  5. ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মূল কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি/কেসিসি আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ও সনদ সংগ্রহ করুন।
সরকারি ফি: জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে; ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা; ৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৫০ টাকা; সংশোধন ফি ১০০ টাকা।
খুলনায় অফিস: খুলনা সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন ও আঞ্চলিক কার্যালয় (ওয়ার্ড ১–৩১) অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সেবা ও স্মার্টকার্ড

নতুন ভোটার নিবন্ধন, ভুল সংশোধন ও রিইস্যু সংক্রান্ত নির্দেশনা

👥 আবেদন যোগ্যতা

১৮ বা তদূর্ধ্ব বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক নতুন ভোটারের আবেদন করতে পারেন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের স্পষ্ট ফটোকপি (বাধ্যতামূলক)
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (এসএসসি বা সমমান সনদ/জেএসসি)
  • নাগরিকত্ব সনদপত্র (ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত)
  • পিতা, মাতা বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • বাসার বিদ্যুৎ বিল বা পৌর হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. services.nidw.gov.bd পোর্টালে গিয়ে "নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন" বাটনে ক্লিক করুন।
  2. নাম, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) যাচাইকরণ সম্পন্ন করুন।
  3. ব্যক্তিগত তথ্য ও স্থায়ী ঠিকানার ঘর সতর্কতার সাথে পূরণ করে আবেদন ফর্মটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করুন।
  4. বয়রা জেলা নির্বাচন অফিস বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক প্রদান করুন।
  5. অনুমোদন পাওয়ার পর অনলাইন পোর্টাল থেকে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।
সরকারি ফি: নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তথ্য সংশোধন ফি ২৩০ থেকে ৩৪৫ টাকা (রকেট/বিকাশ/নগদের মাধ্যমে সরকারি কোডে প্রদেয়)।
খুলনায় অফিস: খুলনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, বয়রা, খুলনা অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)

ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন (e-Passport)

ই-পাসপোর্টের ধাপভিত্তিক আবেদন, ফি ও সাক্ষাৎকার নির্দেশনা

👥 আবেদন যোগ্যতা

বাংলাদেশের সকল নাগরিক সাধারণ ও জরুরি ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন (১৮ বছরের নিচে)
  • পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং তার ফটোকপি
  • সরকারি চাকরীজীবীদের ক্ষেত্রে এনওসি (NOC) বা জিও (GO)
  • অনলাইন আবেদন সারসংক্ষেপ (Application Summary) ও পেমেন্ট রসিদ

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে নিজের ইমেইল ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  2. পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর) ও পাতার সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪ পাতা) নির্বাচন করুন।
  3. সরকারি এ-চালান বা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন।
  4. খুলনার বয়রা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান)-এর জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ নির্বাচন করুন।
  5. কাগজপত্র জমা ও বায়োমেট্রিক শেষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হলে এসএমএস পেয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
সরকারি ফি: ৫ বছর মেয়াদি (৪৮ পাতা) সাধারণ ফি ৪,০২৫ টাকা; জরুরি ফি ৫,৭৫০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি (৪৮ পাতা) সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা; জরুরি ফি ৮,০৫০ টাকা।
খুলনায় অফিস: আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বয়রা মেইন রোড, খুলনা
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ

ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন (Trade License)

কেসিসি ও ইউনিয়ন পরিষদে বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার সঠিক নিয়মাবলী

👥 আবেদন যোগ্যতা

খুলনা মহানগরী বা জেলায় যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী উদ্যোক্তা বা সত্ত্বাধিকারী।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • দোকান বা অফিসের ভাড়াচুক্তিপত্র অথবা নিজস্ব জায়গার হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ
  • লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস ও ইনকর্পোরেশন সনদ
  • কারখানা বা রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ লাইসেন্স

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. কেসিসির ক্ষেত্রে নগর ভবন রাজস্ব শাখা অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ করুন।
  2. ব্যবসায়িক তথ্য ও মূলধনের পরিমাণ স্পষ্টভাবে লিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি সংযুক্ত করুন।
  3. সিটি কর্পোরেশন বা ইউপি রাজস্ব পরিদর্শক কর্তৃক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়া।
  4. নির্ধারিত ব্যাংক বা পৌর ক্যাশে সরকারি ফি ও সাইনবোর্ড কর জমা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করুন।
  5. প্রতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিলম্ব ফি ছাড়া নবায়ন সম্পন্ন করা যায়।
সরকারি ফি: ব্যবসার ধরন ও পরিধি অনুযায়ী ৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০+ টাকা (১৫% সরকারি ভ্যাট প্রযোজ্য)।
খুলনায় অফিস: কেসিসি নগর ভবন (বাণিজ্যিক শাখা), কেডিএ এভিনিউ, খুলনা অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ
ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ড (land.gov.bd)

অনলাইন নামজারি ও ই-পর্চা ভূমিসেবা (e-Mutation & Khatian)

অনলাইনে জমির খারিজ, নামজারি আবেদন ও খতিয়ান প্রাপ্তি

👥 আবেদন যোগ্যতা

জমির ক্রেতা, হেবা বা ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা লাভকারী যে কোনো নাগরিক।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • মূল রেজিস্ট্রি দলিল বা সার্টিফাইড সহি মহুরি নকল
  • পিঠ দলিল (প্রয়োজনে পূর্ববর্তী বায়া দলিলসমূহ)
  • হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (দাখিলা) পরিশোধের রশিদ
  • সর্বশেষ সিএস/এসএ/আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান কপি
  • আবেদনকারী ও ওয়ারিশদের এনআইডি ও স্থানীয় ওয়ারিশান সনদ

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. land.gov.bd পোর্টালে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে নাগরিক একাউন্টে প্রবেশ করুন।
  2. "ই-নামজারি আবেদন" অপশনে ক্লিক করে বিভাগ খুলনা, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন।
  3. খতিয়ান ও দাগ নম্বর এবং হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ লিখে দলিলের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
  4. আবেদন ফি ২০ টাকা ও নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা অনলাইনে প্রদান করুন।
  5. ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার তদন্ত ও শুনানির পর ডিসিআর ও রেকর্ড সংশোধন ফি ১,১০০ টাকা পরিশোধ করে খতিয়ান ডাউনলোড করুন (সর্বোচ্চ ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে)।
সরকারি ফি: সর্বমোট সরকারি ফি নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা (কোর্ট ফি ২০ + নোটিশ ৫০ + রেকর্ড সংশোধন ও ডিসিআর ফি ১,১০০ টাকা)। অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেন দণ্ডনীয়।
খুলনায় অফিস: সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় / এসিল্যান্ড অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস
খুলনা সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান

নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশান সনদ (Citizen & Inheritance Certificate)

স্থায়ী নাগরিকত্ব ও বৈধ উত্তরাধিকারী প্রত্যয়ন প্রাপ্তির নিয়মাবলী

👥 আবেদন যোগ্যতা

খুলনা মহানগরী বা জেলার যে কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা অথবা মৃত ব্যক্তির আইনানুগ উত্তরাধিকারীগণ।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ
  • স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স বা বিদ্যুৎ বিলের কপি
  • ওয়ারিশান সনদের ক্ষেত্রে: মূল মৃত ব্যক্তির অনলাইন মৃত্যুর সনদপত্র
  • সকল বৈধ ওয়ারিশের এনআইডি/জন্মনিবন্ধন ও পারিবারিক বংশলতিকা ছক

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস অথবা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করুন।
  2. পারিবারিক বংশলতিকা ও ওয়ারিশদের নামের তালিকা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করুন।
  3. স্থানীয় দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা ওয়ার্ড মেম্বার কর্তৃক প্রত্যয়ন স্বাক্ষর নিন।
  4. কাউন্সিলর বা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যতা যাচাই ও দাপ্তরিক রেজিস্ট্রি বইয়ে লিপিবদ্ধকরণ।
  5. স্বাক্ষরিত ও অফিশিয়াল সিলমোহরযুক্ত নাগরিকত্ব বা ওয়ারিশান সনদপত্র গ্রহণ করুন।
সরকারি ফি: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নামমাত্র পরিষদ ফি (৫০ থেকে ১০০ টাকা)।
খুলনায় অফিস: সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় (কেসিসি) অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়
সমাজসেবা অধিদপ্তর (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়)

সরকারি বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সুবর্ণ কার্ড

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রাপ্তি

👥 আবেদন যোগ্যতা

বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর এবং মহিলার বয়স সর্বনিম্ন ৬২ বছর; বিধবা/স্বামী নিগৃহীতা ভাতা প্রাপ্তিতে অসহায় নারী; প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ডধারী যেকোনো বয়সের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আবেদনকারীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
  • সচল নগদ/বিকাশ বা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর (মোবাইল ব্যাংকিং ভাতা স্থানান্তরের জন্য)
  • প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবন্ধিতা সনদ
  • বিধবা ভাতার জন্য: স্বামীর মৃত্যু সনদপত্র বা ইউনিয়ন/কাউন্সিলর প্রত্যয়ন
  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা বাতায়ন (dss.gov.bd) বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যান।
  2. আবেদন ফরমের নির্দেশিকা অনুযায়ী এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদান করে ওটিপি যাচাই করুন।
  3. স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানার সংশ্লিষ্ট খুলনা জেলা ও উপজেলা/পৌরসভা/ওয়ার্ড নির্বাচন করুন।
  4. প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে "সুবর্ণ নাগরিক কার্ড" এর আবেদন সম্পন্ন করে প্রতিবন্ধিতা যাচাই সম্পন্ন করুন।
  5. অনলাইন আবেদন সাবমিট করার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কমিটির অনুমোদনের পর সরাসরি মোবাইল ওয়ালেটে সরকারি ভাতা পৌঁছাবে।
সরকারি ফি: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি ভাতার আবেদন বা সুবর্ণ কার্ডের জন্য কোনো প্রকার ফি বা অর্থ প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি।
খুলনায় অফিস: জেলা সমাজসেবা কার্যালয় (বয়রা) অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় / শহর সমাজসেবা কার্যালয় খুলনা
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)

বিআরটিএ ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্মার্টকার্ড

বিএসপি পোর্টালে লার্নার পারমিট, ড্রাইভিং পরীক্ষা ও ডিজিটাল লাইসেন্স প্রাপ্তি

👥 আবেদন যোগ্যতা

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য সর্বনিম্ন ২১ বছর হতে হবে।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এর স্পষ্ট ফটোকপি/স্ক্যান কপি
  • রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত মেডিকেল সার্টিফিকেট ফরম
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি বা সমমান পাস)
  • সদ্য তোলা ডিজিটাল পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ইউটিলিটি বিলের কপি

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (bsp.brta.gov.bd)-এ নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  2. মেডিকেল সার্টিফিকেট ও এনআইডি আপলোড করে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স (শিক্ষানবিস সনদ) আবেদন করুন এবং ফি পরিশোধ করুন।
  3. অনলাইন থেকে তাৎক্ষণিক লার্নার পারমিট ডাউনলোড ও প্রিন্ট নিন, যাতে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টের তারিখ থাকবে।
  4. খুলনার জোড়াগেট সার্কেল অফিসে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও ছবি) প্রদান করুন।
  5. স্মার্টকার্ড প্রস্তুত হলে এসএমএস নোটিফিকেশন পাবেন এবং ডাকযোগে বা সার্কেল অফিস থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
সরকারি ফি: অপেশাদার (মোটরসাইকেল বা হালকা যান): লার্নার ফি ৩৪৫ টাকা, মূল লাইসেন্স ও স্মার্টকার্ড ফি ২,৫৪২ টাকা; পেশাদার ফি ১,৬৮২ টাকা।
খুলনায় অফিস: বিআরটিএ খুলনা সার্কেল অফিস, জোড়াগেট, খুলনা সদর
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

অনলাইন ই-টিন সার্টিফিকেট ও শূন্য আয়কর রিটার্ন (e-TIN & Tax Return)

কয়েক মিনিটে ই-টিন গ্রহণ ও অনলাইনে ঘরে বসে আয়কর রিটার্ন দাখিল

👥 আবেদন যোগ্যতা

বাংলাদেশের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বা করদাতা যাঁর ব্যাংকিং, ট্রেড লাইসেন্স বা সেবা পেতে ১২ ডিজিটের ই-টিন প্রয়োজন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আবেদনকারীর সচল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
  • এনআইডির সাথে নিবন্ধিত মোবাইল সিম নম্বর
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স নম্বর (ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. secure.incometax.gov.bd পোর্টালে গিয়ে Register বাটনে ক্লিক করে মোবাইল ও এনআইডি দিয়ে একাউন্ট তৈরি করুন।
  2. ই-টিন আবেদনের ক্ষেত্রে মৌলিক তথ্য পূরণ করলেই তাৎক্ষণিক ১২ ডিজিটের ডিজিটাল টিন সার্টিফিকেট পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করা যাবে।
  3. আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য e-Return মেনুতে গিয়ে বাৎসরিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রদান করুন।
  4. করযোগ্য আয় না থাকলে শূন্য রিটার্ন (Zero Return) সাবমিট করুন এবং তাৎক্ষণিক সরকারি প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (Acknowledgement Slip) ডাউনলোড করুন।
সরকারি ফি: ই-টিন গ্রহণ ও অনলাইন রিটার্ন দাখিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। করযোগ্য আয় না থাকলে কোনো কর পরিশোধ করতে হয় না।
খুলনায় অফিস: কর অঞ্চল খুলনা, কর ভবন, বয়রা প্রধান সড়ক, খুলনা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (কৃষি মন্ত্রণালয়)

কৃষক সহায়তা কার্ড ও কৃষি প্রণোদনা প্রাপ্তি (Krishi Card)

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ ও সরকারি প্রণোদনা সেবা

👥 আবেদন যোগ্যতা

খুলনা জেলার যেকোনো ক্ষুদ্র, প্রান্তিক বা মাঝারি কৃষক যিনি প্রত্যক্ষভাবে কৃষি জমিতে চাষাবাদ বা পানের বরজ পরিচালনা করেন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • কৃষি জমির খতিয়ান/দাখিলা অথবা বর্গা চাষিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার/চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র
  • কৃষক সহায়তা ভাতা স্থানান্তরের জন্য কৃষকের ১০ টাকার ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল একাউন্ট

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. নিজের ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও)-র সাথে যোগাযোগ করুন অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যান।
  2. কৃষি তথ্য বাতায়ন (krishi.gov.bd)-এ কৃষক ডাটাবেজে নাম ও ফসলি জমির পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করান।
  3. উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন কমিটির অনুমোদনক্রমে ডিজিটাল কৃষক কার্ড গ্রহণ করুন।
  4. আমন, বোরো, গম, সরিষা ও রবি মৌসুমে কৃষি অফিস থেকে ঘোষিত বিনামূল্যে উন্নত বীজ ও ডিএপি/এমওপি সার সংগ্রহ করুন।
সরকারি ফি: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি বীজ ও সার প্রণোদনা প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
খুলনায় অফিস: দৌলতপুর কৃষি ভবন অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিস (ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, রূপসা ইত্যাদি)
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের ও ক্ষতিপূরণ

পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ভেজাল পেলে সরকারি প্রতিকার

👥 আবেদন যোগ্যতা

যেকোনো সাধারণ ভোক্তা যিনি পণ্য বা সেবা কিনে প্রতারিত হয়েছেন, বেশি দাম দিতে বাধ্য হয়েছেন বা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

📋 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্যাশমেমো / রসিদ / চালান (বাধ্যতামূলক প্রমাণস্বরূপ)
  • প্রতারিত পণ্য, মোড়ক বা অতিরিক্ত মূল্যের ছবি বা ভিডিও প্রমাণ
  • অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের ফোন নম্বর

📝 ধাপভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া

  1. পণ্য কেনার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ প্রস্তুত করুন।
  2. ভোক্তা হেল্পলাইন ১৬১২১-এ কল করে অথবা dncrp.gov.bd পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ ফরম জমা দিন।
  3. খুলনার বয়রা বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমেইল (dncrpkhulna@gmail.com) বা সরাসরি ডাকযোগেও লিখিত অভিযোগ পাঠানো যায়।
  4. অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করবেন ও সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করবেন।
  5. আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে বিক্রেতাকে জরিমানা করা হবে এবং আরোপিত মোট জরিমানার ২৫% অর্থ তাৎক্ষণিক অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।
সরকারি ফি: অভিযোগ দায়ের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো কোর্ট ফি বা আবেদন ফি নেই।
খুলনায় অফিস: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়, বয়রা, খুলনা

সংরক্ষিত রক্তদাতা ও সেবা

এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত তালিকা। সব ডিভাইসে সংরক্ষিত রক্তদাতা ও সেবা সিঙ্ক করতে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।